সত্যের সন্ধানে বিশ্বজুড়ে
পোর্টাল: anb24.net | প্রিন্টের সময়: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৯ এএম
অনেক মগ থাকলেও বারবার একই মগে কেন চা–কফি খান, মনোবিজ্ঞান যা বলছে
ঘরে অনেক কাপ–মগ থাকলেও চা বা কফি খাওয়ার সময় অজান্তেই কি বারবার একই মগ হাতে তুলে নেন? সেটি হয়তো সবচেয়ে দামি নয়, সবচেয়ে সুন্দরও নয়। কোথাও সামান্য চিড় ধরেছে, রংও কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। তবু সেটিই যেন সবচেয়ে আপন লাগে। কেন?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কাকতালীয় নয়। মানুষের মস্তিষ্কের দুটি সুপরিচিত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব—‘এনডাউমেন্ট ইফেক্ট’ ও ‘মিয়ার এক্সপোজার ইফেক্ট’ এর পেছনে কাজ করে।
নিজের জিনিসকে বেশি মূল্যবান মনে হয়
১৯৯০ সালে মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেম্যান এবং অর্থনীতিবিদ জ্যাক নেটশ ও রিচার্ড থ্যালার এক গবেষণা চালান। তাতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে একটি কফির মগ তুলে দেওয়া হয়।
এরপর তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয়, মগটি ছেড়ে দিতে কত টাকা চাইবেন? অন্যদিকে যাঁদের কাছে মগটি ছিল না, তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয়, একই মগ কিনতে কত টাকা দিতে রাজি।
ফল ছিল চমকপ্রদ। যাঁদের হাতে মগটি ছিল, তাঁরা সেটি ছাড়তে অনেক বেশি টাকা দাবি করেন। অর্থাৎ কোনো বস্তু আমাদের নিজের হয়ে গেলে মস্তিষ্ক সেটিকে আগের তুলনায় বেশি মূল্যবান বলে মনে করতে শুরু করে। মনোবিজ্ঞানে এটিই এনডাউমেন্ট ইফেক্ট নামে পরিচিত।
পরিচিত জিনিসের প্রতিই বেশি টান
আরেকটি ব্যাখ্যা আসে মিয়ার এক্সপোজার ইফেক্ট থেকে। মনোবিজ্ঞানী রবার্ট জায়ন্স দেখিয়েছিলেন, কোনো বস্তু, মুখ বা শব্দের সঙ্গে আমরা যত বেশি পরিচিত হই, ততই সেটির প্রতি আমাদের পছন্দ বাড়তে থাকে।
আপনি প্রতিদিন একই মগে চা খেলে ধীরে ধীরে সেটিই আপনার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক মনে হবে। সেটি অন্য মগের চেয়ে ভালো বলেই নয়, বরং বারবার ব্যবহার করার কারণেই।

দুটি প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে
প্রথমে মগটি নিজের হওয়ায় তার মূল্য আপনার কাছে বেড়ে যায়। এরপর প্রতিদিনের ব্যবহারে সেটির সঙ্গে তৈরি হয় পরিচিতি ও স্বস্তির অনুভূতি। সময়ের সঙ্গে মগটির ছোটখাটো দাগ, চিড় বা রং ফিকে হয়ে যাওয়াও আর ত্রুটি মনে হয় না; বরং সেটিই হয়ে ওঠে আলাদা পরিচয়।
এ কারণেই বহু বছর ব্যবহার করা একটি সাধারণ মগ অনেক সময় নতুন ও দৃষ্টিনন্দন মগের চেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে ওঠে।
নতুন মগে অভ্যস্ত হতে সময় লাগে

তাই প্রিয় মগটি বদলে নতুন একটি মগ ব্যবহার করতে গেলে অনেকের অস্বস্তি লাগে। নতুন মগটির সঙ্গে এখনো কোনো স্মৃতি বা পরিচিতি তৈরি হয়নি। ফলে সেটি দেখতে যত সুন্দরই হোক, পুরোনো মগের মতো আপন লাগে না।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি অতিরিক্ত আবেগ নয়। বরং মানুষের মস্তিষ্ক পরিচিত ও নিজের বলে মনে হওয়া জিনিসের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি আকৃষ্ট হয়।
তাই প্রতিদিন সকালে একই মগে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাসের পেছনেও কাজ করে মানুষের মনস্তত্ত্বের সুপ্রতিষ্ঠিত কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
সূত্র: জার্নাল অব পলিটিক্যাল ইকোনমি ও জার্নাল অব পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি
পাঠকদের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যসাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬ উদ্যাপন
২৩ জুলাই, ২০২৬বিশ্বকাপ ফাইনাল আবারও আয়োজনের দাবিতে সই করেছেন ৬২ হাজার আর্জেন্টাইন ভক্ত
২৩ জুলাই, ২০২৬রয়টার্সের প্রতিবেদন: শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
২৩ জুলাই, ২০২৬বাবা–মেয়েকে হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ধর্ষণের সাজা কমে যাবজ্জীবন
২৩ জুলাই, ২০২৬লাইফ সাইকেল
২৩ জুলাই, ২০২৬মব সৃষ্টি করে পুলিশের হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেওয়া আসামি বাঁশখালীতে গ্রেপ্তার
২৩ জুলাই, ২০২৬ফটো কার্ড স্টাইল নির্বাচন করুন
সংবাদের ছবি দিয়ে কিভাবে ফটো কার্ডটি ডাউনলোড করতে চান অপশন সিলেক্ট করুন
ANB24
সত্যের সন্ধানে বিশ্বজুড়ে
অনেক মগ থাকলেও বারবার একই মগে কেন চা–কফি খান, মনোবিজ্ঞান যা বলছে
ANB24
সত্যের সন্ধানে বিশ্বজুড়ে