
মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এখনো যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তার মতে, এ খাতে উন্নতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নীতিনির্ধারণে স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন অপরিহার্য।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক জোরদারকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। এতে অংশ নেন বাংলাদেশে অবস্থানরত ইতালিয়ান নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা, গবেষক ও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসন সম্ভাবনা নিয়ে একটি বিশদ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। পরে আলোচকেরা দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উপায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো তার বক্তব্যে বলেন,“বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এসব প্রচেষ্টা যেন নির্বাচনের পরেও অব্যাহত থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ বিনিয়োগ হঠাৎ করে আসে না—এটি নির্ভর করে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা, আইন ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ওপর।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইতালির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশ। বিশেষ করে গার্মেন্টস, শ্রম ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বিশাল। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এ খাত দ্রুত প্রসার লাভ করবে।
বাংলাদেশি পাসপোর্টের মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন,“বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান এখনো অনেক নিচে। এর জন্য অবৈধ অভিবাসনই মূলত দায়ী। অনেক বাংলাদেশি অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে পরবর্তীতে আশ্রয় প্রার্থনা করেন, যা পাসপোর্টের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা কমিয়ে দেয়।”
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন যে, ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হলেও অনেকেই অবৈধ পথে যাত্রা করেন, যা উভয় দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ।“বাংলাদেশ ইতালির গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন অংশীদার। তবে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে,” — বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণ, করনীতি সংস্কার, আইনের শাসন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান সংস্কার উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন।






