
আজ দেশের ভিতর বা প্রবাস—প্রতিটি জায়গাতেই যেন একই দৃশ্য। যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিয়াজু করেছে, তারাই আজ বিএনপির নানা পর্যায়ের নেতা, উপদেষ্টা, এমনকি কমিটির সভাপতি বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন।
অথচ যারা বছরের পর বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করেছেন—হামলা, মামলা, বাড়ি ছাড়া হয়ে জীবন কাটিয়েছেন; কিংবা প্রবাসে থেকেও জীবিকার ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করেছেন—তাঁদের কোনো মূল্যায়নই আজ আর দেখা যাচ্ছে না। আপনার যদি মামুখালু দিয়ে লভিং করতে পারেন তাহলে অনেক বড় নেতাবনে যাবেন যদিও আপনি রাজনীতি করেননি।
আমরা কেউ কেউ প্রবাসে চাকরি হারানোর ভয় উপেক্ষা করে টকশোতে সত্য বলেছি, সামাজিক মাধ্যমে সরকারের অন্যায় তুলে ধরেছি, প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছি—কিন্তু আজ সেই ত্যাগ কোথাও স্বীকৃতি পাচ্ছে না। বরং যাঁরা একসময় আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট করেছেন, বা বিভিন্ন সংগঠনের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, আজ তাঁরা বিএনপির ছত্রছায়ায় থেকে আবার দলের অভ্যন্তরেই ত্যাগীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
প্রবাসে যারা এখনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উদ্দেশে বলছি—এখনো সময় আছে, ভেবে দেখুন। রাজনীতি করতে গিয়ে যদি জীবিকা হারান, পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই ত্যাগ যদি মূল্যায়িত না হয়, তাহলে সেটা কেবল ক্ষতিরই নামান্তর। অনেকে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে ‘নেতা’ বনে যান—তাঁদের রাজনীতির কোনো পূর্ব ইতিহাসও নেই।
এই অবস্থা যদি চলতেই থাকে, তাহলে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ ত্যাগীরা যেখানে হতাশ, আর সুবিধাবাদীরা যেখানে দলে নেতৃত্ব দিচ্ছে—সেখানে রাজনীতির নীতি ও আদর্শ বলে কিছু আর অবশিষ্ট থাকে না।
লেখক, সাংবাদিক ও মালদ্বীপ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল।






