ব্রাহ্মণপাড়ায় ভয়ংকর ভূমিদস্যু আক্তারের তাণ্ডব, আতঙ্কে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, মো. শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একের পর এক জমি দখল, ভুয়া দলিল তৈরি, মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে পুরো এলাকা জিম্মি করে রেখেছে কুখ্যাত ভূমিদস্যু আক্তার হোসেন ও তার দখলদার সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসহায় পরিবার ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলে তার প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে

ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখল, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে আক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ভূমি অফিসের কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া দলিল ও খতিয়ান তৈরি করে অসংখ্য নিরীহ মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে। যেসব ভুক্তভোগী তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, তাদের বিরুদ্ধে সে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে

এক ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, “আমার দাদার আমলের জমি, নিয়মিত খাজনা দেওয়া, বিএস খতিয়ান থাকা সত্ত্বেও আক্তার ভুয়া দলিল বানিয়ে জমির মালিকানা দাবি করছে। শুধু আমি নই, পুরো এলাকায় ৫০-৬০টি পরিবারের বিরুদ্ধে সে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আক্তার শুধু সাধারণ মানুষের জমিই নয়, সরকারি সম্পত্তিও দখলে নিতে পিছপা হয়নিব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বহুতল মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হলে, সে সরকারি জমির ওপর মালিকানা দাবি করে মামলা ঠুকে দেয়, ফলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি, এলাকাবাসী আতঙ্কে

ভুক্তভোগীরা জানান, যদি কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলে, তাহলে আক্তার তার কিশোর গ্যাং বাহিনী দিয়ে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, অনেকে ভয়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে

সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, “আমি প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে আমার জমির জন্য লড়াই করে অবশেষে উদ্ধার করতে পেরেছি। আক্তার সাধারণ মানুষের জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।”

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন আনু সর্দার জানান, “আক্তারের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে ৪০টির বেশি মামলা চলমান। সে কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।”

এমনকি তার নিজের পরিবারও তার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি। ভুক্তভোগী জজু মিয়া জানান, “আমি ন্যায্যমূল্যে জমি কিনেছি, কিন্তু আক্তার তার নিজের মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে তাদের জমি বিক্রি করে দিয়েছে।”

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, ভূমিদস্যু আক্তার ও তার দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই দুর্বৃত্ত চক্র দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে

ভুক্তভোগীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দ্রুত প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন

দৈনিক জনতার মতামত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে—ভূমিদস্যু আক্তার ও তার দখলদার চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের জমি রক্ষা করা হোক