Free YouTube Subscribers
anb24.net
সত্যের সন্ধানে আমরা বিশ্ব জুড়ে

বৈধ হওয়ার সুযোগ পাসপোর্ট জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ

দুই সহস্রাধিক

0 451

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

 

আপনি আপনার ফেইসবুক পেইজে অটু লাইক বাড়াতে চাইলে এখানে কিল্ক করে রেজিষ্ট্রেশন করুন।


গ্রিস প্রবাসী আব্দুল কালাম চলতি বছরের ২ মার্চ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদন করেন। এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস তার আবেদন জমা নেয় ও ২৫ এপ্রিল পাসপোর্টটি সংগ্রহ করার জন্য একটি রশিদ দেওয়া হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয় তার। কিন্তু ৮ মাস পেরোলেও এখনো পাসপোর্টটি ছাপা হয়নি।                        ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন এএনবি২৪  ইউটিউব চ্যানেল।

 

দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলেন, ‘পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্ভারে দেখাচ্ছে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আসেনি’। তাদের সার্ভারে পুলিশ ভেরিফিকেশন পেন্ডিং দেখাচ্ছে। অথচ আবেদনকারী হিসেবে আবেদনের অবস্থা সার্ভারে যাচাই করতে গেলে সেখানে লেখা দেখাচ্ছে, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন অ্যাপ্রুভড’। অন্যদিকে পুলিশও বলছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিক পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

 

১২ বছর আগে হাতের লেখা পাসপোর্ট নিয়ে গ্রিসে পাড়ি দেওয়া প্রবাসী আব্দুল কালাম বলেন, এক যুগ ধরে অবৈধভাবে থাকায় দেশেও যেতে পারছি না। এবার গ্রিসে বৈধ হওয়ার সুযোগ এসেছে। কিন্তু পাসপোর্ট না পেলে আমরা এ সুযোগ হারাবো। দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলেন- পাসপোর্ট ঢাকা অফিসে আটকে আছে। জেলা পুলিশের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন- গত এপ্রিলেই তদন্ত করে পক্ষে রিপোর্ট পাঠিয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা মোকদ্দমা নেই, এমনকি পাঠানোর প্রমাণও দেখিয়েছে তারা। কিন্তু দূতাবাসের কর্মকর্তারা অনলাইনে দেখে বলছেন পুলিশ রিপোর্টের জন্য আটকে আছে। তারা কিছু জানেন না।

 

ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছেন এই প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। শুধু আব্দুল কালামই নয় গ্রিসে পাসপোর্ট জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ। রেমিট্যান্সযোদ্ধারা ইউরোপে বৈধ হতে পাসপোর্টের ভুল তথ্যের কারণে পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়। এমনকি অনেকেই অবৈধ পথে অ্যানালগ পাসপোর্ট নিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাদের কাছে বর্তমানে নেই কোনো পাসপোর্ট। নতুন করে পাসপোর্ট করার সুযোগও পাচ্ছে না তারা। এমন সমস্যা প্রতিকারের আশায় দৌড়ঝাঁপ করে সদুত্তর না পেয়ে অনেকটা হতাশায় ভুগছেন।                                                                                                                                           সকল নিউজ সবার আগে জানতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে কিল্ক করার অনুরোধ রহিলো।

গ্রিসে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশির বসবাস। কিন্তু এদের মধ্যে সিংহভাগই অনিয়মিত। নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র।

দূতাবাসের তথ্যমতে, গ্রিসে পাসপোর্ট নেই এমন দুই হাজার বাংলাদেশি আছেন। যাদের অনেকেই এমআরপির জন্য আবেদন করেছেন। প্রায় পাঁচশ আবেদন আছে যারা বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু এসব আবেদনই আটকে আছে ঢাকায়। পাসপোর্টের জন্য গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও আটকে থাকা পাসপোর্টগুলো ছাপা হচ্ছে না।                                                                                                                                   এএনবি২৪ ডট নেট ফেইসবুক গ্রুপে যুক্ত হতে এখানে কিল্ক করার অনুরোধ রহিলো।

এদিকে, নানা জল্পনা-কল্পনার পর বাংলাদেশ ও প্রাচীন সভ্যতার দেশ গ্রিসের সমঝোতা চুক্তিটি গ্রিক সংসদে অনুমোদন হয়েছে। ফলে প্রতিবছরে চার হাজার করে কর্মী মৌসুমি কর্ম ভিসায় নেওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে থাকা অবৈধ ১৫ হাজার অভিবাসীকেও বৈধতা দেওয়া হবে। অনিয়মিত বাংলাদেশিদের নিয়মিতকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্স আরেকটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত হওয়ার জন্য ২ বছরের বেশি মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট, দূতাবাস থেকে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি লাগবে। কিন্তু যাদের পাসপোর্ট নেই তারা এখন মহা বিপদে পড়েছেন। এ নিয়ে অনেকেই হতাশায় ভুগছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলে অনিয়মিতদের বৈধ করণের সুযোগ আসছে। এ বছরই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে বাংলাদেশিদের বৈধ হতে প্রথম শর্ত হচ্ছে মূল পাসপোর্ট লাগবে। বর্তমানে অনেকের কাছেই পাসপোর্ট নেই। এক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসর্পোটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনের দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ইউরোপের প্রথম মিশন হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ার কিছুদিন পর পাসপোর্ট অধিদপ্তর দূতাবাস থেকে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রিস-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে গ্রিসে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত আনুমানিক ১৫ হাজার বাংলাদেশির বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়। অনিয়মিতদের দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য দূতাবাসের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ মাসের জন্য এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম পুনরায় চালু করে, যা আগামী জানুয়ারি ২০২৩ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে।

যদি এই অনুমোদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা না হয়, তবে জানুয়ারি ২০২৩ সালের পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে শুধু ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট নিতে পারবেন। এই সময়সীমার মধ্যে যারা এমআরপি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করেছেন বা করবেন তারা তাদের পাসপোর্ট যথা নিয়ম অনুযায়ী পাবেন।

এ ব্যাপারে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ২০২১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনুমোদন ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি তাদের পাসপোর্টে নাম, ঠিকানা ও জন্ম সালসহ বিভিন্ন ধরনের এক বা একাধিক তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন। এসময় তারা তাদের আবেদনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র দেন। এসব আবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রবাসীদের অবস্থা বিবেচনা করে ও তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই অনিষ্পন্ন পাসপোর্টের আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পন্ন করে প্রবাসীদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে এসব অনিষ্পন্ন পাসপোর্টের আবেদনগুলো ভবিষ্যতে নিষ্পন্ন হবে।

এদিকে, বর্তমানে গ্রিসে বেশকিছু বাংলাদেশি আছেন, যাদের কাছে কোনো পাসপোর্ট নেই। ১০-১৫ বছর আগে অনেকেই হাতের লেখা পাসপোর্ট নিয়ে ইরান-তুরস্ক হয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন। দালালের কথায় সেই পাসপোর্টও সীমান্তে ফেলে দিয়েছিলেন। শূন্য হাতে প্রবেশ করেছিলেন গ্রিসে। এসব অ্যানালগ পাসপোর্টধারীদের কোনো তথ্য নেই পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্ভারে।

এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় দেড় সহস্রাধিক লোক আছে যাদের কাছে পাসপোর্ট নেই। এদের অনেকেই এক থেকে দেড় বছর আগে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু পাসপোর্ট পাননি। বর্তমানে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তাদের উপায় কী হবে?

এ বিষয়ে দূতাবাসের মিনিস্টার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, গ্রিসের বিদ্যমান প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশির পাসপোর্ট নেই বা পূর্বে হাতে লেখা পাসপোর্ট থাকলেও তার কোনো রেকর্ড নেই। এমন আবেদনকারীদের পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা এখনো পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলো যথা শিগগির নিষ্পন্ন করা না গেলে এসব প্রবাসীরা গ্রিস ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

  এএনবি২৪ ডট নেট  নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকে । তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

সূত্র   জাগো নিউজ 

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন এএনবি২৪ ইউটিউব চ্যানেল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.