এএনবি২৪ ডট নেট/ASIAN NEWS BROADCAST

টাকা দিলে অসম্পূর্ণ আবেদনও সঠিক হয়ে যায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে-টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়

0 52

টাকা না দিলে কোনও আবেদনই জমা হয় না। ‘এটা ঠিক করেন, সেটা ঠিক করেন’, ‘এই কাগজ লাগবে, সেই কাগজ লাগবে’—এমন নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয় পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিসে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষকে। টাকা দিলে অসম্পূর্ণ আবেদনও সঠিক হয়ে যায়।

 

 

অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করে জমা দিতে গিয়েও এভাবে দিনের পর দিন হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পাসপোর্ট করছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং যাদের জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রয়োজন তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বেশি। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় তাদের।

 

নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে ফরম পূরণ করে পাসপোর্টের সব শর্তের কাগজপত্র সংযুক্ত করে অফিসে জমা দিতে হয়। জমা দেওয়ার পরই ছবি তোলা হয়। এরপর পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার একটি তারিখ দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নানা জটিলতা সৃষ্টি করে অজুহাত দেখিয়ে ঘুষ দাবি করা হয় দালালের মাধ্যমে। পঞ্চগড়ের অধিকাংশ পাসপোর্ট প্রত্যাশী শহরের পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন গড়ে ওঠা বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করেন। তারপর অফিসে গেলে আবেদন ফরমে নানা ধরনের ভুল বের করা হয়। ভুল শুধরে আসতে বলা হয়। ভুল শুধরে আসার পর জমা দেওয়ার জন্য আবার একটি তারিখ নির্ধারণ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এভাবে শুধু ফরম জমা দেওয়ার জন্যই ৩ থেকে ৪ দিন ঘুরতে হয়। কিন্তু অনলাইন ফরম পূরণের ওই দোকানগুলোর মাধ্যমে জমা দিলে তাৎক্ষণিক আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়। এ জন্য বাড়তি এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এসব কম্পিউটারের দোকানদাররা বলছেন, এই টাকা দিতে হয় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

 

 

 

তেঁতুলিয়া উপজেলার বৈরাগীগজ গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, বাবাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাবো। এ জন্য পাসপোর্ট নবায়ন করতে এসে কয়েক দিন ঘুরতে হয়। পরে মামুনি কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী মিলন হোসেন জানায়, অফিসে এক হাজার টাকা দিলে আজকেই জমা নেবে। তাকে এক হাজার টাকা দিলে ওইদিনই পাসপোর্ট জমা নেয় অফিস কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

একই উপজেলার আমজুয়ানী এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জালাল হোসেন জানান, সব কাগজ ঠিক আছে। তারপরও আমাকে ৩ দিন ঘুরতে হয়েছে। আমার কাছে অপরিচিত এক দালাল এক হাজার টাকা চেয়েছিল। যাওয়া আসা করতেই আমার দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। পরে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে ফাইল জমা দিয়েছি।

মামুনি কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী মিলন হোসেন জানান, পাসপোর্ট করতে এসে অনেকে হয়রানির শিকার হয়। তখন তারা আমাদের অনুরোধ করে। আমরা তখন প্রতি পাসপোর্টে এক হাজার টাকা নিয়ে পঞ্চগড় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের শাহরিয়ার আহমেদ নামে অফিস সহকারীর কাছে জমা দেই। তিনি অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের দেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আমাদের কম্পিউটারের দোকানগুলোর কাছ থেকে এভাবে অফিস কর্তৃপক্ষ টাকা নেয়। এক হাজার টাকা দিলেই ফাইল জমা নেন তারা।

 

 

 

পঞ্চগড় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী শাহরিয়ার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের নাম ভাঙিয়ে অনেকে টাকা নিতে পারে। এর দায় আমার নয়। অফিসে কেউ টাকা নেয় না। ভুক্তভোগীদের হয়রানি করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

 

 

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ আসেনি। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেন—এই অভিযোগ সত্য নয়। তারপরও এমন ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

 

 

 

বাংলা ট্রিবিউন

Leave A Reply

Your email address will not be published.