Free YouTube Subscribers
anb24.net
সত্যের সন্ধানে আমরা বিশ্ব জুড়ে

আদালতের বারান্দায় বাড়ি ফিরে পেতে ৩০ বছর!

0 54

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রোকেয়া বেগম। বয়স ৫৬–এর বেশি। আজ রোববার আপিল বিভাগের এজলাসে দাঁড়িয়ে নিজের মামলার দ্রুত শুনানি করতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এ সময় আদালত জানতে চান তাঁর আইনজীবী আছে কি না। তখন পেছন থেকে আইনজীবী শিরিন আফরোজ ডায়াসের সামনে দাঁড়ান। আদালতের কার্যক্রম শেষ হলে শিরিন আফরোজ বলেন, ‘এই বৃদ্ধা খুবই অসুস্থ। তিনি এর আগে এসেছিলেন। তখন অবকাশের পর আসতে বলা হয়েছিল। তাই তিনি আজ এসেছেন। তবে আদালত বলেছেন, কার্যতালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে।’

রোকেয়ার বক্তব্য ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাবা নাজির আহমেদ পুলিশ সদস্য ছিলেন। তিনি পৌনে দুই কাঠা জমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পান। পরে আনসারে চাকরি করা মেয়ে রোকেয়া বেগমকে ১৯৭৯ সালে ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের অর্থ পরিশোধ করলে ছিয়াশি সালে বিশেষ সার্ভে করে সেখানে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়িতে তালা দিয়ে ১৯৯০ সালে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন রোকেয়া বেগম। ওই সময় প্রতিবেশী নূর ইসলাম তালা ভেঙে ওই বাড়ির দখল নেন। নিজের নামে বরাদ্দের কাগজও তৈরি করেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় জিডি করলেও বাড়ি ফিরে পাননি রোকেয়া।

 

পরে সেটেলমেন্ট অফিসে যোগাযোগ করলে ১৯৯৩ সালে নূর ইসলামের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে ১৯৯৪ সালে তাও খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেন নূর ইসলাম। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ২০০১ সালে নূর ইসলামের আবেদন খারিজ করে রোকেয়া বেগমের পক্ষে রায় দেন আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে জেলা আদালতে আপিল করলে ২০০৪ সালে তা খারিজ হয়। এরপর হাইকোর্টে আপিল করেন নূর ইসলাম। সেখানেও রায় আসে রোকেয়া বেগমের পক্ষে। সব শেষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন নূর ইসলাম। যা এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

আপিল বিভাগে মামলা লড়তে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের সহায়তা চান রোকেয়া বেগম। লিগ্যাল এইড থেকে আইনজীবী শিরিন আফরোজকে এই মামলায় নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যারা লিগ্যাল এইডের সাহায্য নেন তাঁরা গরিব মানুষ। তাঁদের বিষয়গুলো শুনানির জন্য বিশেষ কোনো দিন ধার্য করা হলে ভালো হতো।’

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘নিজের জমি বলে কিছু নেই। একেক সময় একেক আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হয়। কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বত্রিশ বছর ধরে বাড়ির জন্য আদালতে ঘুরছি। এই বয়সেও নিজের বাড়িতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না!’

 

আজকের পত্রিকা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.